বিজ্ঞাপন:
সংবাদ শিরোনাম:
পঞ্চগড়ে চা বাগানে বজ্রপাতে প্রাণ গেল শ্রমিকের পঞ্চগড়ে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী শ্লীলতাহানির অভিযোগে প্রধান শিক্ষক আটক গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে বজ্রাপাতে ৩ জনের মৃত্যু বিএনপি নেতার সঙ্গে মারামারি করা সেই শিক্ষিকা বরখাস্ত ১৫ শতকের দলিলে ২১ শতকের স্বপ্ন: বাটোয়ারা মামলায় একটি ‘গাণিতিক জালিয়াতি’র এনালগ ব্যবচ্ছেদ! হোয়াইট হাউসে গুলি, সরিয়ে নেওয়া হলো ট্রাম্পকে নিত্যপণ্যের দাম বাড়তি, অস্বস্তিতে নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা গরমে হাঁসফাঁস করছে মানুষ, লোডশেডিং অব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়হীনতায় জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে নির্মূলে কাজ করতে হবে : মির্জা ফখরুল প্ল্যাটফর্মে ঘুমিয়ে তারা, জেগে আছি আমরা— কারা সত্যিকারের শান্তিতে?
সুদানে ড্রোন হামলায় প্রাণ গেল গাইবান্ধার সবুজের

সুদানে ড্রোন হামলায় প্রাণ গেল গাইবান্ধার সবুজের

জাভেদ হোসেন,গাইবান্ধা প্রতিনিধি: ভাগ্য বদলানোর স্বপ্ন নিয়ে দেশের সীমানা পেরিয়ে সুদানে গিয়েছিলেন সবুজ মিয়া (৩৫)। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর বাস্তবায়ন হলো না। সেনাবাহিনীর সঙ্গে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে সুদানে ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার এই তরুণ। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে লন্ড্রিম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি।

পারিবারিক সূত্র জানায়, সবুজ মিয়া ২০১০ সালে লন্ড্রিম্যান হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করলেও পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর আশায় কখনও পিছপা হননি তিনি। সর্বশেষ গত ৭ নভেম্বর জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের অংশ হিসেবে সুদানে যান সবুজ।

এরপর ১৩ ডিসেম্বর গভীর রাতে দায়িত্ব পালনকালে একটি ড্রোন হামলার শিকার হন তিনি। হামলায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান সবুজ মিয়া। রাতে তার মৃত্যুর খবর পৌঁছে গেলে মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায় গ্রামের বাড়িটি।

 

নিহত সবুজ মিয়া গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার মহাদিপুর ইউনিয়নের ছোট ভগনবানপুর গ্রামের পূর্ব পাড়ার বাসিন্দা। তার পিতা মৃত হাবিদুল ইসলাম। দুই ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন পরিবারের প্রধান ভরসা। দেড় বছর আগে বিয়ে করেন সবুজ। আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারটির একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি।

সরেজমিনে নিহত সবুজের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে চলছে শোকের মাতম। বাড়ির আঙিনা ও আশপাশে আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর ভিড়। কেউ নীরবে চোখ মুছছেন, কেউ আবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। উঠানে বসে থাকা মা সকিনা বেগম বারবার ছেলের নাম ধরে ডাকছেন। ভেতর ঘরে স্ত্রী নুপুর বেগম নির্বাক হয়ে বসে আছেন, হঠাৎ হঠাৎ কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। পুরো বাড়িজুড়ে ভারী হয়ে উঠেছে শোকের পরিবেশ।

ছেলের মৃত্যুতে বাকরুদ্ধ মা সকিনা বেগম বলেন,
“ও বলেছিল, মা আর একটু কষ্ট করো। আমি ফিরে এলে সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু আল্লাহ আমার ছেলেটাকে ফিরিয়ে দিল না।”

স্বামী হারানোর শোকে ভেঙে পড়া স্ত্রী নুপুর বেগম বলেন,“আমাদের সংসারটা নতুন ছিল। এত তাড়াতাড়ি সব শেষ হয়ে যাবে ভাবিনি। আমার জীবনের সব স্বপ্ন ওর সাথেই শেষ হয়ে গেল।”

সবুজ মিয়ার মৃত্যুতে পুরো ছোট ভগনবানপুর গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এলাকাবাসী জানান, তিনি ছিলেন শান্ত স্বভাবের, পরিশ্রমী ও ভদ্র একজন মানুষ। পরিবারের সুখের জন্যই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদেশে কাজ করতেন।

এলাকাবাসী দ্রুত নিহত সবুজ মিয়ার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি শোকাহত পরিবারের পাশে রাষ্ট্রীয় সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।

গাইবান্ধা পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সারোয়ার আলম মুঠো ফোনে বলেন, আমরা নিয়মিত খোঁজ খবর রাখছি। মরদেহ দেশে আসতে সময় লাগবে বলে জেনেছি।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।
Design & Development BY : ThemeNeed.com